শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও কয়েক দিনের সংঘর্ষ-ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কোথাও সংঘর্ষ, ভাঙচুর কিংবা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চললেও কিছু কারখানা এখনো বন্ধ রয়েছে।
গত কয়েক দিনের ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
গত রাতে শতাধিক বখাটে ও বহিরাগত দুষ্কৃতকারী জেলার পল্লী বিদ্যুৎ,সফিপুর, মৌচাক,চন্দ্রা, এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় ভাংচুর চালায় এবং শ্রমিকদের বের করে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলে শ্রীপুর থানা সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গতিবিধির ওপর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও নজর রাখছেন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে নাশকতা ও ভাঙচুরে জড়িত করার চেষ্টা ঠেকাতে শিল্পকারখানার আশপাশে তাঁদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে তৎপর রয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি জানান, অধিকাংশ কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু কারখানা বৃহস্পতিবারও বন্ধ রাখা হয়েছে।
কালিয়াকৈর পল্লি বিদ্যুৎ এলাকার এক পোশাকশ্রমিক নিজের নাম ও কর্মস্থলের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সবাই বুঝে গেছে এটা কিসের আন্দোলন। তাই সবাই রুজি-রুটির কাজে মনোযোগ দিয়েছে। যে হাত শিল্পের চাকা বন্ধ করতে চায়, নিজের রিজিকের পবিত্র স্থান কারখানায় ভাঙচুর চালায়, সেই হাত কোনো শ্রমিকের হতে পারে না। সেটা দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের হাত।
দেশের কলকারখানা রক্ষায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ হলে ক্ষতি হবে শ্রমিকদের, উসকানিদাতাদের নয়। তাঁর মতে, শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বাড়ির মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সরকারিভাবে যৌক্তিক ও সহনীয় বাড়িভাড়া নির্ধারণের দাবি তোলা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাদী হাসান,
নির্বাহী সম্পাদক মেহেদী হাসান,
কপি রাইট কতৃক অনুমোদিত