স্টাফ রিপোর্টার:- আল ইমরান
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলাজুড়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধ বোরিং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলার ১৪টি স্পটে একযোগে বালু লুটের চিত্র পাওয়া গেছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও বালুমহাল আইন থাকলেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ১৪টি স্পটের চিত্র:
১. উড়াকান্দি ও পারুলিয়া ইউনিয়ন: উড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগড়াবাইড়ে ব্যাটারি কারখানার পশ্চিমে বিএডিসির ধানের ব্লকের মাঝের কৃষি জমি এবং পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় পারুলিয়া বিল ও তেতুলিয়া বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াবাইড় গ্রামের হেলাল মোল্লার বিরুদ্ধে।
২. রাজপাট ইউনিয়ন: ধোপাপাড়া দক্ষিণপাড়া মতিন প্রফেসরের বাড়ির পিছনে, বরইহাট, তেতুলিয়া, সিল্টের বিল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ শফিকুল, সোহেল, শাহানুর, কালা শাহানুর, সুজনদের বিরুদ্ধে। ডুমরাকান্দি-সাতাসিয়ার বিল থেকে রাজিব, টুলু, সিরাজের ড্রেজার চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
৩. উড়াকান্দি ইউনিয়নের মাইঝকান্দি বিল: এখান থেকে টগর শেখ, মানি তালুকদার, কুদ্দুসের ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার অভিযোগ।
৪. গোয়ালগ্রাম: গোয়ালগ্রাম মাদ্রাসা টু কুমরিয়া সড়কের পাশের ঘের থেকে শ্রীপুরের জামাল মোল্লা ও খাগড়াবাইড়ের হেলাল মোল্লার বালু উত্তোলনের অভিযোগ।
৫. শুক্তগ্রাম, নাটগ্রাম, বেথুড়ী: শুক্তগ্রাম মডেল স্কুলের পূর্ব পাশে আলমের ড্রেজার, নাটগ্রামের চন্দ্রদ্বীপ বিল থেকে মনিরুল ইসলামের বালু ভরাট, বেথুড়ী বিলে সাফায়েত এবং সিতারামপুর পশ্চিম ডাঙ্গার বিলে ওমর মোল্লার ড্রেজারের অভিযোগ।
৬. হাতিয়াড়া ইউনিয়ন: হাতিয়াড়া বটবাড়ি বড় রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় জুয়েল, কামাল, ভুলবাড়িয়া বিল থেকে জামাল মেম্বারের ছেলে আসলাম, কাঞ্চ এবং পাথরগ্রাম বিল থেকে অনুপ রায়ের ১টি ও বরমপাল্টা গ্রামের সুজিতের ২টি ড্রেজার দিয়ে কৃষি জমি থেকে বালু তোলার অভিযোগ।
৭. সিংগা ইউনিয়ন: দেবাসুর বিল থেকে লালু, গৌতম, সজল এবং সিংগা পূর্বপাড়া থেকে শরজিতের ড্রেজারের অভিযোগ।
৮. নিজামকান্দি, মাহমুদপুর, পুইশুর, সাজাইল: নিজামকান্দি ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সিরাজ ও সাহিদুল, মাহমুদপুরের জিকেবাড়ি বিলে হারাধন, পুইশুর ইউনিয়নের সিতারামপুর স্কুলের পূর্ব পাশের বিলে নিক্সন ও টুটুল মোল্লা এবং সাজাইল ইউনিয়নের কুসুমদিয়ার বিল থেকে আকিজ মোল্লার বিরুদ্ধে কৃষি জমি থেকে বালু তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি জমিতে ড্রেজার বসালে আশপাশের ১০-১৫ বিঘা জমি ধসে পড়ছে। উর্বর জমি বালুচরে পরিণত হচ্ছে এবং গভীর গর্ত হয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।
এই উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ এর ৭ক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধারায় পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতি করে কৃষি জমি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু তোলা নিষিদ্ধ। আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী এর শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ড্রেজার মেশিন বাজেয়াপ্ত।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা লিজা এর আগেও বলেছেন কৃষি জমি থেকে বালু তোলা বেআইনি এবং অভিযান চলছে। কিন্তু ১৪টি স্পটে প্রকাশ্যে ড্রেজার চলায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সকল ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাদী হাসান,
নির্বাহী সম্পাদক মেহেদী হাসান,
কপি রাইট কতৃক অনুমোদিত