আবু মুসা, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক তরুণী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, উর্মি আক্তার নামে এক তরুণী বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে মঈনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও কয়েকজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে কয়েকটি বিকাশ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একাধিক লেনদেন হয়েছে। তবে এসব অর্থ কী কারণে দেওয়া বা নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রতারণার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উর্মি আক্তারের বড় ভাই টিপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার বোন প্রতিদিন সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এরপর কর্মস্থলের বাইরে কোথায় যান বা কী করেন, সে বিষয়ে তিনি সবসময় অবগত নন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, উর্মি আক্তার ও মঈনুল ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে তারা পটিয়া এলাকায় একসঙ্গে ছিলেন। ওই সময় একটি সিম নিবন্ধনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
অন্যদিকে, উর্মি আক্তারের ব্যবহৃত বলে দাবি করা কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। তবে অ্যাকাউন্টগুলো প্রকৃতপক্ষে উর্মি আক্তারের কি না এবং সেগুলো থেকে কোনো প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময়ে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেন করেছেন। তাদের কাছে থাকা কথোপকথন, লেনদেনের রসিদ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উর্মি আক্তার ও মঈনুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য: কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি অপরাধী—এমনটি নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আইনগত তদন্ত প্রয়োজন।
বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাদী হাসান,
নির্বাহী সম্পাদক মেহেদী হাসান,
কপি রাইট কতৃক অনুমোদিত