মণিরামপুর প্রতিনিধি :নয়ন রায়।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চালুয়াহাটি গোপিকান্তপুর গ্রামের মৃত জোনাব আলী বিশ্বাস ওরফে ঝন্টু বিশ্বাসের ছেলে মো. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কখনো সরকারি দপ্তর, কখনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবার কখনো সচিবালয়ের কর্মচারী পদে উচ্চ বেতনের স্থায়ী চাকরির আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। শুধু অর্থ নেওয়াই নয়, চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ভুয়া নিয়োগপত্র সরবরাহ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আশায় অনেকেই জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে অর্থের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে তারা এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার বেলকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম তার ভাইপোর চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা, দয়াল মনোহরপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা, ডুমুরিয়ার তীর্থঙ্করের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, কেশবপুরের ইসরাফিলের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ইমন হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে অর্থ ফেরত না পেয়ে কেশবপুরের বেলকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম গত ২২ জুন আদালতে চেক ডিজঅনারের একটি মামলা দায়ের করেছেন। সাইফুল ইসলামের দাবি, তার ভাইপোকে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে ডিউটি করানো হয়। পরে নিয়োগপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আতিয়ার রহমানের দেওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিলে সেটি ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের স্বজন অভিযোগ করেন, "এত মানুষের সর্বনাশ করার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার কারণে একাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।