মোঃ আব্দুর রহিম দুলু, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের কুলিয়া এলাকার বহুল আলোচিত ও ‘সয়াবিন তেল আলম’ নামে পরিচিত শফিকুল ইসলাম আলম অবশেষে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, বিকাশ প্রতারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি বর্তমানে জামালপুরের ইসলামপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ইসলামপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়ে বেকার যুবক ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম আলম ওরফে ‘সয়াবিন তেল আলম’ এলাকায় একজন কুখ্যাত প্রতারক হিসেবে পরিচিত। তিনি কখনো শরীরচর্চা শিক্ষক, কখনো ক্রীড়া সংগঠক, কখনো ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, আবার কখনো জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং পরে প্রতারণা চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি বিকাশের মাধ্যমেও বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। অসংখ্য পরিবার তার মিথ্যা আশ্বাসে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
শফিকুল আলম একজন সাবেক চেয়ারম্যানপুত্র হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে অবশেষে তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তির সুবাতাস বইছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের অবসান ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারই নয়—এই বহুল আলোচিত প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের প্রতারণার সাহস না পায়।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “শত শত পরিবারকে পথে বসিয়ে দেওয়া এই প্রতারকের কঠোর শাস্তিই এখন সময়ের দাবি।”
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত আরও কোনো ব্যক্তি আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনমনে এখন একটাই প্রত্যাশা—আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতারক শফিকুল ইসলাম আলম ওরফে ‘সয়াবিন তেল আলম’-এর উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত হোক।