নজরুল ইসলাম খোকন
টেকনাফ, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় জেলের ছদ্মবেশে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে এবং বিওপি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নলবনিয়া এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
পরে বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে মিয়ানমারের দিক থেকে জেলের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে নলবনিয়ার দিকে আসতে দেখে টহল দলের সদস্যদের সন্দেহ হয়। বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিক ধাওয়া চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি মো. রাশেদুল (২৫)। তিনি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার বালুখালী ডাকঘরাধীন নলবনিয়া গ্রামের মাহাবুব আলমের ছেলে।
তল্লাশির সময় তার কোমরে বাঁধা অবস্থায় এবং হাতে থাকা মাছ বহনের টুকরির ভেতর থেকে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী ৬টি কার্টনে মোট ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাশেদুল স্বীকার করেন, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। তিনি আরও জানান, বিজিবির নজর এড়াতে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রায়ই মাছ ধরার জাল ও মাছের টুকরির মধ্যে ইয়াবা লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে অন্য কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, "মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"