নিজস্ব প্রতিবেদক ই.ক.ম.জে.ডি. উজ্জ্বল
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের জানমাল ও শিল্পকারখানার সম্পদ রক্ষায় কাজ করাই ছিল আমার পেশা, আমার দায়িত্ব এবং আমার গর্ব। অসংখ্য অগ্নিকাণ্ডে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। কখনো নিজের কথা ভাবিনি, ভেবেছি শুধু কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে মানুষের ক্ষতি কমানো যায়।
ঈদের আগের রাতে সাভার ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত অবস্থায় পরপর কয়েকটি শিল্পকারখানার আগুন নেভাতে ছুটে যাই। জিরানী বাজারের তুংহাই ফ্যাক্টরিতে অগ্নিনির্বাপণের সময় ঘন ধোঁয়ার মধ্যে কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হই। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও চোখে গুরুতর আঘাত পাই। সেই আঘাতের যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছি।
চাকরি জীবনে দেশের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। ওয়ালটনসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বহুবার আগুন নির্বাপণে অংশ নিয়েছি। সর্বশেষ একটি অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। এরপর থেকেই আমার জীবন যেন এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন শিল্পকারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে অসংখ্য সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি, যেন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জীবনও নিরাপদ থাকে। কিন্তু সেই আহ্বান যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
আজ আমি অসহায়। আমার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, নিজের চিকিৎসা এবং চারটি সন্তানের ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন দায়িত্ব পালনকারী ফায়ার যোদ্ধা হিসেবে এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
আমি বিনীতভাবে বিজিএমইএ-এর সম্মানিত সভাপতি, দেশের শিল্পকারখানার মালিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি—আপনারা যদি মানবিক বিবেচনায় আমার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমি আমার পরিবারকে নিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারি।
আমি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম, শিল্পকারখানার মালিকদের উদ্দেশ্যে একটি সুপারিশপত্র দেওয়ার জন্য। কারণ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমাকে জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ পেলে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।
আজ আমি দেশের মানুষের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই—দেশের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে আহত একজন ফায়ার যোদ্ধা কি চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাবেন? আমার অসুস্থ মা কি চিকিৎসা ছাড়াই জীবন কাটাবেন? আমার চারটি সন্তানের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে?
আমি কারও দয়া চাই না, চাই শুধু বেঁচে থাকার একটি সুযোগ—চাই চিকিৎসা, একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং আমার সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সামান্য সহায়তা।
দেশবাসীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে এই আবেদনটি বেশি বেশি শেয়ার করুন। হয়তো আপনাদের একটি শেয়ারই আমার আর্তনাদ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং কোনো সহৃদয় মানুষ এগিয়ে আসবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সহযোগিতা করতে চান, তাহলে যোগাযোগের মাধ্যম:
বিকাশ: ০১৭৪০৯২৬০৫৪
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, বিজিএমইএ এবং দেশের সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আল্লাহ যেন আমাকে, আমার মাকে এবং আমার চারটি নিষ্পাপ সন্তানকে এই কঠিন সময় থেকে উত্তরণের পথ দেখান। আমিন।