
স্বামীর অস্বীকৃতির অভিযোগ, ভরণপোষণ বন্ধের দাবি; অভিযোগ অস্বীকার নয়, সমস্যার কথা বললেন শিক্ষক
মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি এবং ভরণপোষণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুক্তা পারভীন নামে এক নারী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন সংসার করার পরও তার স্বামী পরিচয় অস্বীকার করছেন এবং কয়েক মাস ধরে তাদের ভরণপোষণ বন্ধ রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা পারভীন বলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাতশাইল গ্রামের জছির উদ্দীনের ছেলে কিবরিয়ার সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হয়। পরে একই গ্রামের মৃত মতিন চৌধুরীর ছেলে, রাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ, সম্পর্কের একপর্যায়ে মোস্তাক আহমেদ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
তিনি জানান, বিষয়টির সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ২০১৮ সালের ৮ জুন ৪ হাজার ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। পরে মোস্তাক আহমেদ নওগাঁ শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে তার সঙ্গে সংসার শুরু করেন। ওই সংসারে ২০২১ সালের ৩ আগস্ট একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
মুক্তা পারভীনের দাবি, মোস্তাক আহমেদের পরামর্শে তিনি প্রথম স্বামী কিবরিয়াকে তালাক দেন। এরপর ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে পুনরায় তাদের বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তাদের কন্যা কানিজ ফাতেমা মমের ভরণপোষণও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "আমার স্বামী যদি আমাকে ও আমার সন্তানকে অস্বীকার করেন, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমি স্ত্রী ও সন্তানের আইনগত স্বীকৃতি এবং ভরণপোষণের দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ বলেন, "আমি ভরণপোষণ দিয়ে আসছি। আমার প্রথম স্ত্রী রেবেকা সুলতানা আমাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় কিছু পারিবারিক সমস্যা তৈরি হয়েছে।"
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলার তথ্য জানা যায়নি। বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।