ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধের সাথে বিজিবিকে মানিয়ে নিতে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম ড্রোন প্রশিক্ষণ স্কুল।
"আজ বাংলাদেশের সামরিক ও সীমান্ত নিরাপত্তার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বিজিবির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান—"Shimanto School of Surveillance and Drone Warfare (SSSDW)"। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও বিজিবি প্রধানের উপস্থিতিতে এই বিশেষায়িত ক্যাম্পাসের পর্দা উন্মোচিত হয়।
এটি কেবল ড্রোন ওড়ানো শেখার সাধারণ কোনো স্কুল নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে সাশ্রয়ী ড্রোন পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিজিবির এই নতুন স্কুলে বাহিনীর সদস্যদের ‘ড্রোন ম্যানুভার’ এবং আধুনিক কৌশলগত যুদ্ধের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্তের একটি বড় অংশ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ঘন বনাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত। শুধু মানবশক্তি দিয়ে এসব সীমান্ত ২৪ ঘণ্টা নিখুঁত নজরদারি করা সম্ভব নয। তাই এই শূন্যতা পূরণ করবে আকাশপথের ডিজিটাল নজরদারির জন্য থার্মাল ও নাইট-ভিশন ড্রোন রাতের অন্ধকারেও অপরাধী ও চোরাকারবারিদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করবে।
সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি, শত্রুপক্ষ বা অপরাধী চক্রের অননুমোদিত ড্রোন ট্র্যাক এবং তা নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করার আধুনিক সক্ষমতা অর্জন করছে বিজিবি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাহিনীর ‘সিক্স-ম্যান পেট্রোল টিম’ এর একটি সফল মহড়াও প্রদর্শন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসামরিক জনবলকেও ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা হবে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ড্রোন এবং এআই-বেসড বর্ডার মনিটরিং সিস্টেম এখানে যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই আধুনিকায়ন বিজিবিকে একটি প্রথাগত সীমান্তরক্ষী বাহিনী থেকে প্রযুক্তিনির্ভর দূরদর্শী বাহিনীতে রূপান্তর করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাদী হাসান,
নির্বাহী সম্পাদক মেহেদী হাসান,
কপি রাইট কতৃক অনুমোদিত