(বাগেরহাট) প্রতিনিধি: নির্মল পাল।
বাগেরহাট মোল্লাহাট উপজেলার ঘোষগাতি গ্রামে এক ধর্মান্তরিত নারীকে বিয়ের পর প্রতারণা, সম্পদ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের চম্পা কুমারী (বর্তমান নাম খাদিজা) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মোল্লাহাট উপজেলার ঘোষগাতি গ্রামের ইসা রুহুল্লার (১৭) সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং দুজন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
খাদিজার অভিযোগ, বিয়ের পর স্বামী ইসা রুহুল্লা তার কাছে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ বিভিন্ন কৌশলে নিয়ে নেন। এরপর তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি ও ননদের সহযোগিতায় তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।
বর্তমানে খাদিজা তার চাচা-শ্বশুরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরও নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা খাদিজার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে যথাযথ মর্যাদায় পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইসা রুহুল্লার পিতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।