জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বয়সভিত্তিক (১৪–২১) জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৬ এপ্রিল রাজধানীর পল্টনস্থ হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তরুণ জুডো খেলোয়াড়রা অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। পরবর্তীতে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ডিআইজি মীর আশরাফ আলী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা জান্নাত আরা।
এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিকেএসপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্লাবসহ মোট ১৫টি দল থেকে ১১৪ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। কোচ ও কর্মকর্তাসহ মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। ১৪টি ভিন্ন ওজন শ্রেণিতে ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় যশোর জেলা দারুণ সাফল্য অর্জন করে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার ইলা অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে রৌপ্য পদক লাভ করেন। প্রতিটি ম্যাচে তার আত্মবিশ্বাস, কৌশলগত দক্ষতা এবং দৃঢ় মনোভাব দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
একইসঙ্গে ফারিয়া আক্তার রিনা তাম্র পদক অর্জন করে যশোরের সাফল্যে আরও একটি অর্জন যোগ করেন।
যশোর দলের টিম ম্যানেজার রাইয়ান রশিদ আবিরের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে দলটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে এবং প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।
দলের সঙ্গে থাকা সৈয়দ আলী আনোয়ার বলেন, এই অর্জন ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো যশোরের জন্য গর্বের বিষয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও খেলোয়াড়দের এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় অর্জন নিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে মফস্বলের খেলোয়াড়রাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। যশোরের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।