মোঃ শিহাব উদ্দিন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জন ও যান চলাচল। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বড় অংশ দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। কমেছে যানজট ও জনসমাগমের চাপ। তবে নিয়মিত তদারকি না থাকলে আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাকান্দাইল মসজিদ প্লাজা থেকে ভুলতার রেডওয়ান টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের ফুটপাত ও মূল সড়কের অংশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসত। এতে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেককে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো, যা যানবাহন চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত।
গত ১৩ অক্টোবর ভুলতা-গাউছিয়া ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুলতা ফ্লাইওভারের আশপাশ, সাতঘাট, এশিয়ান হাইওয়ে, রূপসী, মুড়াপাড়া ও কাঞ্চন এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে আগের তুলনায় চলাচলের জায়গা বেড়েছে। ফুটপাত ও সড়কের ওপর দোকানপাটের দখল কমে যাওয়ায় পথচারী এবং যানবাহন চলাচলে কিছুটা স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার দৃশ্যও আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ১৪ অক্টোবর গোলাকান্দাইলের সাতঘাট এলাকায়ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখা দোকানপাট সরানোর পাশাপাশি রাস্তার ওপর রাখা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামালও অপসারণ করা হয়।
কাঞ্চন বাজার এলাকায় গত ১৭ অক্টোবর সকালে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আরেকটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন। এসব উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের দখল সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর কয়েক দফা পরিদর্শন ও তদারকি করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণে কিছু ভবন ও জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হকার বসানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী দোকান বসানোর বিনিময়ে অর্থ নেওয়া এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে দখল বজায় রাখার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আগে হকার ও ভাসমান দোকানের কারণে এলাকাটিতে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উচ্ছেদের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
মঞ্জু নামের এক পথচারী বলেন, দোকানপাট সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকায় পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি হতো। এখন চলাচল তুলনামূলক সহজ হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন আন্তরিক থাকলে রূপগঞ্জের অন্যান্য এলাকাতেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে উচ্ছেদের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের বিকল্প জায়গায় ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উদ্যোগে গাউছিয়া মার্কেটের পশ্চিম পাশে সিলাব সড়কের বালুর মাঠে দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেখানে বিনা ভাড়ায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হলে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় যানজট কমবে এবং পথচারীদের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মাহাদী হাসান,
নির্বাহী সম্পাদক মেহেদী হাসান,
কপি রাইট কতৃক অনুমোদিত