আব্দুস সামাদ
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী সরকারি জিএস স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
আইসিটি শিক্ষক জাহিদ হাসান শান্তের বিষয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।এর পরেই ভোকেসনাল বিভাগের শিক্ষক নারায়ন চন্দ্রের বিরুদ্ধেও শ্লীলতা হানীর অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।জানেনা জেলা প্রশাসন।অপর দিকে স্কুলের দাবি তাদের নিয়োগ কর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এজন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তদন্তের গোপন প্রতিবেদন দেয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় যা ব্যবস্থা নেয়ার নিবে।
গত ৭ জুনের এই ঘটনার ১৪ দিনেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না দেখায় শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় সংবাদভিত্তিক পেজ গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।এতেও কোনো ফল না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানটিতে ২১ জুন মানববন্ধন করেন।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের আন্দোলনটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত আরা সিদ্দিকা সহ শিক্ষকরা কথা বলেন।এতে শিক্ষার্থীরা একে একে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও মুখপাত্র মফিদুল ইসলাম হ্যান্ড মাইকে উত্তর দেন।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বলেন,ভিক্টিমের ফ্যামিলির সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তারা জিনিসটাকে এমন ভাবে বুঝাচ্ছে যে, বিগত সময়ে অনেক অফার গেছে, টাকার অফার গেছে, তাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বিষয় টাকে ধামাচাপা দিয়ে যতটুক পারে করার অফার ছিলো। অনলাইন প্লাটফর্মে প্রতিবাদ করি তারপরে সেটা সবার মাঝে সর্বোচ্চ ছড়ায়।আমরা যদি সোচ্চার হয়ে পোষ্ট না করতাম তাহলে ভিক্টিম আসলেই কি বিচার পেতো?
শিক্ষক ও মুখপাত্র মফিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জানার সাথে সাথেই টিচার্স কাউন্সিলে বসে তাৎক্ষণিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেই।তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে এর মধ্যে আমরা তার শ্রেনী কার্যক্রম বন্ধ রাখি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কারনে আমরা তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে পাঠাই।
অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে কোন প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন এজন্য আমরা তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে পাঠাই। অভিযুক্তদের লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করেছি। তাদেরকে তদন্ত কমিটির সামনে মুখোমুখি করেছি এবং অভিযোগকারীর লিখিত জবানবন্দি গ্রহন করেছি। তাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব গ্রহন করেছি।এখন আমাদের প্রসিডিওর অনুযায়ী এটা আমাদের প্রশাসনিক প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রেরন করবেন এবং তিনি এটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করবেন।এটা গোপনীয় প্রতিবেদন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিব জানান,ঘটনার পরে ভিক্টিম তার বান্ধবী কে শেয়ার করে। মানসম্মানের ভয়ে মেয়েটি চিৎকার করতে পারে নাই। পরবর্তী তে তার বান্ধবী কে বলে।ওই বান্ধবী ও তাকে সহ থ্রেট করা হয় ওইক্ষেত্রে তারা হিন্দু এবং আমাদের দেশে যে প্রচলিত ব্যাপার থাকে যে হিন্দুদের কে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা। আমরা কখনো করিনা তবে একটা কুচক্রী মহল এটা সবসময় করার চেষ্টা করে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ বলেন,ঘটনা শোনার পর এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো না।কারণ আমি স্কুলে পড়াশোনা করছি, এবং ওনার মত একজন শিক্ষক যদি এরকম নিম্নমানের কাজে বজায় থাকে এর থেকে দুঃখজনক আর কোন কিছু হতে পারে না। একজন শিক্ষকের কাছে ছাত্র বা ছাত্রী সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, বাপ মায়ের পরে শিক্ষকের অবস্থান। শুধু একজন না অসংখ্য স্টুডেন্টদের কাছে এরকম ঘটনা শোনা যাচ্ছে। এটা মানার মত না। আমরা আপাতত স্কুলের তদন্ত কমিটির উপর ভরষা রাখছি। তদন্তের পর যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখবো, অপরাধ অনুযায়ী যদি বিচার না হয় তবে আমরা আবার আন্দোলনে নামবো।
প্রশাসনিক প্রধান ও প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা বলেন,তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের নাম বলা যাচ্ছেনা।১৭ তারিখ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।২০ তারিখ তদন্ত শেষ হয়েছে।দুটি তদন্ত কমিটির সভাপতিই প্রধান শিক্ষক।
জেলা প্রশাসক মুহা.রাশেদুল হক বলেন,বিষয়টি আমার নজরে নেই।এ বিষয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলবো।