বিএম সাব্বির হাসান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:-সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত থাকা প্রায় ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে তিনি প্রশাসনিক সততা ও দায়িত্বশীলতার বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খনন প্রকল্পের আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির জন্য সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ যথাযথ পরিকল্পনা, সঠিক তদারকি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বরাদ্দের একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। সরকারি নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং জনগণের অর্থের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন অবশিষ্ট প্রায় ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, প্রকল্পের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় না করে বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী ব্যয় নিশ্চিত করার ফলেই এই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায়ই অতিরিক্ত ব্যয়, অপচয় কিংবা অনিয়মের অভিযোগ শোনা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে কাজ শেষে অব্যবহৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে এটি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতা ও সুশাসনের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তারা মনে করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেনের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একজন সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের একটি ইতিবাচক ও বিশ্বাসযোগ্য ভাবমূর্তি তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার এমন উদাহরণ খুব বেশি দেখা যায় না। অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সৎ ও দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব। উল্লেখ্য, মণিরামপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনসেবামুখী উদ্যোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছে। খাল খনন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সুশাসন, সততা এবং জনগণের অর্থের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।