বিশেষ প্রতিনিধি:-খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙা থানা এলাকায় শ্বাশুড়ি ও দুই নিষ্পাপ শিশুকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওরফে রফিককে অবশেষে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। বরিশালের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান হলো।
র্যাব-৬ সদর কোম্পানি এবং র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জুন ২০২৬ তারিখ বরিশাল জেলার কোতোয়ালি থানাধীন কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালায়। ওই অভিযানে সোনাডাঙার আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার ১নং অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম হাওলাদার (৩৮), পিতা- মোঃ আলমগীর হাওলাদার, সাং- দৌলতপুর, খুলনাকে গ্রেফতার করা হয়।
কয়েক দিন আগে সোনাডাঙা থানাধীন এলাকার একটি বাসায় ঢুকে শ্বাশুড়ি ও তার দুই নাবালক শিশু কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় ঘাতক রফিক। একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো খুলনায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ‘নরপিশাচ’ রফিককে ধরতে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব ফোর্সেস নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি দমনে নিরলস কাজ করছে। বিশেষ করে চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সোনাডাঙার এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। গ্রেফতারকৃত রফিক হাওলাদারকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনার সোনাডাঙা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ কী ছিল, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা-সব তথ্য বের করে আনা হবে। কুখ্যাত খুনি রফিক গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনাডাঙা এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই নরপশুর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছে।র্যাব-৬ এর অধিনায়ক বলেন, “অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক, যত দূরেই পালাক, র্যাবের হাত থেকে তার নিস্তার নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় র্যাব সর্বদা সোচ্চার।