
ডেক্স রিপোর্ট
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে আরও ৫০টি শয্যা বৃদ্ধি করে মোট ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর এ সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় এটি যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অভয়নগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও দলটির মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরদার মো. শরীফ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ৮ নম্বর সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে দলটির মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মহিউল ইসলাম, উপজেলা জামায়াত নেতা শরীফ বেলাল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অভয়নগর শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল, পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুজ্জামান, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সৌজন্য সাক্ষাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ১০১-এ উন্নীত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব পদে জনবল নিয়োগ হলে রোগীদের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
এ ছাড়া উপজেলার রাজঘাট এলাকার শেষ প্রান্তে অবস্থিত শ্রমিক হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে হাসপাতালটি সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
সাক্ষাতে উপস্থিত জামায়াত নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যও এসব সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট রয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে অভয়নগরের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে শুধু শয্যা বৃদ্ধি নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি। তাই ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পরও হাসপাতালের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।