
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন কুড়িয়ে পাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন নারী দুলালী। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দুলালীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাকে উদ্ধারকারী মিরপুর-২ নম্বর এলাকার ৬০ ফিট সড়কের বাসিন্দা সমাজসেবক মোঃ করিম রিপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি মৃত্যুর খবর জানান এবং অসহায় ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিজের পোস্টে করিম রিপন লিখেছেন, “সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে দুলালী মারা গেছেন। একজন দুলালীকে বাঁচাতে না পারলেও ভবিষ্যতে এমন অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত পরিবর্তন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমার এই সংগ্রাম চলবে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুলালী দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার শরীরে গুরুতর রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা এবং সেপটিক শকের মতো জটিলতা দেখা দিয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, দুলালী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি অবহেলা, অপুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। চিকিৎসক দলের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুলালীর মৃত্যু সমাজে অবহেলিত, অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সচেতন মহলের মতে, সমাজের প্রান্তিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
দুলালীর জীবনাবসান ঘটলেও তার ঘটনা সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেল—অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক দায়িত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
আল্লাহ মরহুমাকে ক্ষমা করুন এবং তার আত্মার শান্তি দান করুন।