
নিজেস্ব প্রতিবেদক
মানবাধিকারের নামে সংগঠন পরিচালনা, ভুয়া পরিচয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, কার্ড প্রদান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একটি কথিত মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারণায় নিজেকে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত একটি বৃহৎ সংগঠনের প্রধান হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব দাবির অধিকাংশেরই বৈধতা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষকে সদস্য বানানোর নামে আইডি কার্ড প্রদান এবং বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কথিত সালিশ, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়েও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সংগঠনের নামে বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ওয়াকি-টকি সদৃশ যন্ত্রপাতি এবং প্রশাসনের আদলে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে একটি প্রতারণার চক্র গড়ে তোলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ কিংবা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে তা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।