1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু

আমতলীতে বজ্রপাতের ভয়াল থাবা: বাড়ছে প্রাণহানি, চরম ঝুঁকিতে কৃষক-জেলে-শ্রমিক

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৫৫ বার পঠিত

মাইনুল ইসলাম রাজু
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

উপকূলীয় জেলা বরগুনার আমতলী উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে বজ্রপাতের ঘটনা। প্রকৃতির ভয়াল এই দুর্যোগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রাণহানি, গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ে জীবিকার তাগিদে কাজ করা কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের জন্য বজ্রপাত এখন এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হঠাৎ কালো মেঘের আনাগোনা, দমকা হাওয়া ও বজ্রের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জীবিকার প্রয়োজনে মাঠে কিংবা নদীতে কাজ করতে হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে একাধিক কৃষক ও শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় জনপদে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে বহু পরিবার, নেমে এসেছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে গরু-মহিষসহ গবাদিপশুর মৃত্যুও বাড়ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়। অধিকাংশ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার অভাব থাকায় মেঘের গর্জন শুরু হলেই জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ চালিয়ে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ, গ্রামাঞ্চলে বড় গাছ বিশেষ করে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত বজ্রপাত নিরোধক প্রযুক্তির অভাব প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। একসময় গ্রামবাংলার তালগাছ বজ্রপাত থেকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিত, কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে গাছ নিধনের ফলে সেই সুরক্ষা এখন অনেকটাই বিলীন।

সচেতন মহল বলছে, আমতলীর খোলা মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশেষ করে তালগাছ রোপণ, আবহাওয়া সতর্কবার্তা প্রচার এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাত এখন শুধুই একটি মৌসুমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি আমতলীর মানুষের জন্য ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তাই জানমাল রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24