
প্রতিনিধি মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এটি ওয়াজিব। ইসলামী শরীয়ত অনুসারে, যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, মুকিম (ভ্রমণরত নয়) এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার উপর কোরবানি করা আবশ্যক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো।” (সূরা আল-কাউসার: ২)। হাদীস শরীফে রাসূল (সা.) বলেন, “যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” (ইবনে মাজাহ)।
কোরবানির পশু নির্বাচনেও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও উট কোরবানির জন্য বৈধ পশু। বয়সের ক্ষেত্রে গরু বা মহিষের কমপক্ষে ২ বছর, ছাগল বা ভেড়ার ১ বছর এবং উটের ৫ বছর পূর্ণ হওয়া আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কোরবানির পশু অবশ্যই সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অন্ধ, গুরুতর অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া বা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাটা পশু দ্বারা কোরবানি বৈধ নয়। হাদীসে এ ধরনের পশু কোরবানির জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে (তিরমিজি, আবু দাউদ)।
পশু কেনার সময় ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পশুর চোখ উজ্জ্বল কিনা, শরীরে কোনো রোগ বা ক্ষত আছে কিনা, ঠিকভাবে চলাফেরা ও খাবার গ্রহণ করতে পারছে কিনা—এসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। সুস্থ ও ভালো মানের পশু নির্বাচন করাই উত্তম ইবাদতের অংশ।
ইসলামে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া লাভ করা। কুরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত বা রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ্জ: ৩৭)।
সুতরাং, সঠিক নিয়ম ও আন্তরিকতার সাথে কোরবানি আদায় করলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার আশা করা যায়। লিখক মুফতি মুহাম্মদ সোলাইমান মাদনী
প্রভাষক আরবী,
বাজালিয়া হেদায়তুল ইসলাম ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা,
সাতকানিয়া,চট্টগ্রাম।