
স্টাফ রিপোর্টার |
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি সরাসরি, ফোনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার)-এর নিকট। এ প্রেক্ষিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা জানান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের অসহায়, বেকার, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবার এবং প্রবাসে কষ্টে দিনযাপন করা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের দুর্দশা গভীরভাবে অনুভব করা হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তবে তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্পষ্ট করেন যে, “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ একটি সম্পূর্ণ চাঁদামুক্ত, স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং মানবিক সংগঠন। সংগঠনের কোনো স্থায়ী তহবিল, নিয়মিত ফান্ড, চাঁদা ব্যবস্থা বা অর্থ সংরক্ষণের আলাদা কোনো কাঠামো নেই। সংগঠনের সভা, অনুষ্ঠান, মানবিক কার্যক্রম কিংবা সাংগঠনিক উদ্যোগ পরিচালিত হয় শুধুমাত্র কিছু সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের স্ব-ইচ্ছায় প্রদত্ত সাময়িক সহযোগিতার মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের নামে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ, স্থায়ী ফান্ড গঠন বা তহবিল সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে সাংগঠনিকভাবে কাউকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কিংবা ঈদ অনুদান বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব সুযোগ বর্তমানে নেই।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, যদি কোনো সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী বা ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেন, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। এর সাথে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আর্থিক দায়বদ্ধতার কোনো সম্পর্ক নেই।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং চাঁদামুক্ত সাংগঠনিক অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় বিভিন্ন সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহ, ফান্ড ব্যবস্থাপনা কিংবা আর্থিক অস্পষ্টতা থেকে ভুল বোঝাবুঝি, অভিযোগ এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়। “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ শুরু থেকেই এসব জটিলতা থেকে দূরে থেকে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।
যারা সহযোগিতার আশায় সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি, তাদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যদি কেউ মনে করেন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এবং সর্বশেষ মানবিক আশ্রয় হিসেবে সংগঠনের দ্বারস্থ হতে চান, তাহলে প্রথমে নিজ নিজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক অফিস, থানা, কাউন্সিল, চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হবে। অভিযোগপত্রের সাথে যথাসম্ভব তথ্য, প্রমাণ, ডকুমেন্ট, ছবি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত রাখতে হবে।
অভিযোগ গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত কপি সংগ্রহ করে ফরিয়াদসহ সংগঠনের নিকট প্রেরণ করলে বিষয়টি মানবিক ও সাংগঠনিকভাবে বিবেচনা করা সহজ হবে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনটি কোনো অবৈধ, মিথ্যা কিংবা বিভ্রান্তিকর অভিযোগ সমর্থন করে না; বরং ন্যায়, মানবিকতা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে।
শেষে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া কামনা করে বলা হয়—তিনি যেন সকল প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা, সাধারণ মানুষ এবং অসহায় পরিবারের কষ্ট লাঘব করেন এবং সবাইকে সুস্থতা, শান্তি ও সম্মানের সাথে জীবনযাপনের তাওফিক দান করেন।
নিবেদনে
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ
এম এ রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব
কেন্দ্রীয় কমিটি
সংগঠনটির দেশ-বিদেশে বিস্তৃত কেন্দ্রীয়, আন্তর্জাতিক, মহিলা ও আঞ্চলিক কমিটির অসংখ্য সদস্য, আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও শুভানুধ্যায়ীরা এ প্রেস বিজ্ঞপ্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইতালি, দুবাই, কুয়েত, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, সুইডেন, স্পেন, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, ওমান, পোল্যান্ড, পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী সদস্যরা সংগঠনের স্বচ্ছ ও মানবিক অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।