
উৎপল কুমার সরকার, ব্যুরো চিফ, রাজশাহী
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আমেজ এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। এতে অংশ নেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের সুখ-শান্তি, দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।
নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জাতীয় ঐক্য, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,
“বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।”
অপরদিকে, ঈদের প্রধান জামাত শেষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নগরীর কোরবানির বর্জ্য ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে নগরবাসীর মাঝে ইতোমধ্যে বর্জ্য ফেলার ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উৎসাহ দিতে বিশেষ ঈদ উপহারও প্রদান করা হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের আগেই রাজশাহী মহানগরী সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঈদের প্রধান জামাতে ভূমিমন্ত্রী ও রাসিক প্রশাসকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী (ঈশা), জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাজনক সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে টিকাপাড়া মহানগর ঈদগাহে সকাল ৭টা ও ৮টায় দুটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সাহেব বাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন জিরোপয়েন্ট এলাকায় সকাল ৮টায় আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরজুড়ে ছিল আনন্দঘন উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই মানুষ একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে ওঠেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে পুরো রাজশাহী মহানগরীতে।