
বিশেষ প্রতিনিধি,আল ইমরান গোপালগঞ্জ:-
গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের রাইতকান্দি গ্রামে পাকা রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রায় আধা কিলোমিটার নির্মিত এ রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের ইট। কিছু কিছু জায়গায় নেই গাইড ওয়ালের মাটিও। ইস্টিমেটে রাস্তার হ্যাজিং এর পাশে দুই ফিট মাটি দেওয়া কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি কোনো মাটি। রোলারিং এর ফলে ধসে পড়ছে হ্যাজিং এর ইটও।
তেমনই উপজেলার সদর ইউনিয়নে সন্ধ্যা বাজার থেকে শ্মশান রোড় (আংশিক) কাজও করছেন ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাহবুবুর রহমান। সেখানে ব্যবহার হচ্ছে সর্বোচ্চ নিম্নমানের ইট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসারের সাথে যোগসাজসে এসব করছে ঠিকাদার। অবিলম্বে রাস্তায় এসব নিম্নমানের ইট অপসারণ করে উন্নতমানের ইট দিয়ে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাইতকান্দি গ্রামের নজির মোল্লা, আরিফা বেগম, আল-আমিন, তাসলিমাসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৮৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালে জুলাই মাসে গোপালগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কামরুল এন্ড ব্রাদার্স শুরু করে এ রাস্তার কাজ। কাজটি ২০২৬ আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে। এরই মধ্যে এই রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৌশলী অফিসারকে ম্যানেজ করে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের ইট ও কিছু কিছু জায়গায় বালির বদলে মাটি। এলাকাবাসীরা আরো অভিযোগ করেন, এই কাজে অনিয়মের বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয় তাদের। তাই ক্ষুব্ধ তারা। তাদের দাবি নিম্নমানের ইট অপসারণ করে উন্নতমানের ইট দিয়ে এবং রাস্তায় পর্যাপ্ত মাটি দিয়ে অবিলম্বে নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা হোক।
ওই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এই রাস্তা নির্মাণে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম। আমি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা আমার কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছে মত ৩নং ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছে। আর নতুন রাস্তার পাশে মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও মাটি না দিয়ে রোলার দিয়ে ডলা হচ্ছে। ফলে পাশথেকে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তায় সাজানো হ্যাজিং এর ইট ও রাস্তার মূল কাঠামো।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাহবুবুর রহমান বলেন, রাস্তা নির্মাণে কোনো খারাপ ইট ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিনিয়ত এলজিইডি’র এসও পরিদর্শন করেন রাস্তা। তবে রাস্তার পাশে হ্যাজিং এর গোড়ে মাটি দেওয়া হয়নি। বিল পেলেই মাটি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে হলে অফিস থেকে যেনে নেন। রাস্তা নির্মাণের সকল নিম্নমানের ইট ব্যবহার বা রাস্তার পাশে মাটি না দেওয়ার প্রশ্নের সম্পুর্ণ দায় চাপান স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের দ্বায়িত্বে থাকা উপ প্রকৌশলী (এসও) উপরে। বলেন, প্রতিদিন রাস্তা তিনি ভিজিট করছেন। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে কিংবা কোনো ইট খারাপ, মাটি লাগবে আরো বললেই তো ঠিক করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভালো করে যানতে তাঁদের ধরেন।
কাশিয়ানী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। এই রাস্তায় অনিয়ম করেছে ঠিকাদার। আমরা আগেও এই ঠিকাদারের এমন অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ঠিকাদারের এসব অনিয়মের দায় আমরা নিব না। রাস্তার পাশে মাটি দেওয়ার জন্য আগেই বলা হয়েছে। আবারও নোটিশ দেওয়া হবে।