1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু মদন পৌর সদরে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করলেন মেয়র পদপ্রার্থী এনামুল হক কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দলিলকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ঘর বাড়ি ভাংচুর আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার (এম.এ) জনপ্রিয়তার শীর্ষে গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মাহিকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ মাদক টাকার দ্বন্দ্বে নৃশংস হামলা, চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে বার্ন ইউনিটে মৃত্যু

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চারদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রোববার (১৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত মাহি বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে একই তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির নামের এক ব্যক্তি মাহির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুহূর্তেই আগুন মাহির পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাহির শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুড়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী জানান, বুড়িচং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। নিহত মাহিও পূর্বে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে মাহির ওপর আগুন দিয়ে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

ঘটনার পর অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাহির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, প্রকাশ্যে একজন মানুষকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপরাধ চক্র ও মাদক বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের নৃশংসতা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24