
মোঃ মাইদুল ইসলাম,কুড়িগ্রাম:
রংপুরে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার বাঁশেরতল এলাকায় একটি পাথরবোঝাই ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা সবাই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের আসাদমোড় এলাকার শামীম হোসেন (৩২) ও তার মেয়ে মোছা: ছাদিয়া (৮), একই এলাকার বাবু মিয়ার স্ত্রী তামান্না (২৮), মোঃ জাহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ নুরনবী (২৮) এবং সাইফুর রহমানের ছেলে মোঃ লিমন (৩০)। নিহত লিমন মাইক্রোবাসটির চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক কুড়িগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে নাগেশ্বরীর বাঁশেরতল এলাকায় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ভূরুঙ্গামারীগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের প্রথমে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহতদের কুড়িগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বুধবার সকালে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাস চালক লিমন মিয়ার চাচা মোঃ নাজমুল হক বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-২৭। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকের নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১৬৬৪ এবং মাইক্রোবাসের নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৮৯৫৭। ট্রাকের ড্রাইভার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। তিনি বলেন, থানায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহত মাইক্রোবাস চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কি না তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিতভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই ও নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।