
মাহাবুর রহমান – কেশবপুর (যশোর)
যশোরের কেশবপুরে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় প্যারামেডিকেল এন্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) সীলগালা করেছে প্রশাসন। একইসঙ্গে কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাসুদ রানা।
রবিবার (১০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কেশবপুর শহরে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রেকসোনা খাতুন পিটিএফে অভিযান চালিয়ে জাল সনদ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ.কে আজাদ ইকতিয়ারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও গোপনে জাল সনদ বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রটি।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে খুলনার জয়েন্ট স্টক (যৌথ মূলধনি কোম্পানি) থেকে প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি বাসা ভাড়া করে পিটিএফের কার্যক্রম শুরু করেন আবুল কালাম আজাদ ইকতিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৪৩/২০১৬। পরে সেখানে কেন্দ্রীয় হেড অফিসের সাইনবোর্ড টানিয়ে ডিএমএফ, ডিএমএ, ডিএমএস, ডিএইচএমসি, ডিএনএ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রেসহ ৫৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের নামে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় আকর্ষণীয় লিফলেট ও প্রচারণার মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রলুব্ধ করা হতো। প্রশিক্ষণের নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো এবং পরে তথাকথিত ডাক্তারি ও বিভিন্ন ট্রেডের সনদ দেওয়া হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ বা সনদ প্রদান করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), মহাখালী, ঢাকা-এর অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ.কে আজাদ ইকতিয়ার এসব অনুমোদন ছাড়াই জয়েন্ট স্টকের অনুমতিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন,কেশবপুর শহরে পিটিএফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন ট্রেডের ভুয়া সনদ বিক্রি করছে— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার (১১ মে) বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।