1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু মদন পৌর সদরে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করলেন মেয়র পদপ্রার্থী এনামুল হক কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দলিলকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ঘর বাড়ি ভাংচুর আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার (এম.এ) জনপ্রিয়তার শীর্ষে

গাইবান্ধায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সেবার নামে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৪০ বার পঠিত

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ওয়ারিশ সনদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে।

‎সরেজমিনে, বিভিন্ন সময়ে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলছে। এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

‎পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি আসতেছি।তবে নির্ধারিত অফিস সময় পার হওয়ার পরও তাকে কক্ষে পাওয়া যায়নি।

‎এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন গ্রাম ও যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য, কেউ নাগরিক সনদ সংগ্রহে, আবার কেউ সরকারি ভাতার সুবিধা পেতে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। তাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের সময়মতো না পাওয়ায় একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দুপুরের পরও তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। এতে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল ও কম্পিউটার অপারেটর বুলবুল বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজপত্রে ভুল ধরা, অনলাইন জটিলতার অজুহাত দেখানো কিংবা ফাইল আটকে রেখে পরে টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

‎সেবা নিতে আসা আবিদ নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজে ভুল ধরা হয়। পরে বলা হয় অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হবে, না হলে কাজ আটকে থাকবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এটি একটি কৌশল।

‎জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সাত মাস ধরে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরানো হচ্ছে।

‎একই গ্রামের আব্দুল মাওলা বলেন,আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন জরুরি ছিল। এ কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা নেন। পরে দিনের পর দিন ঘোরানোর পর তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে আমার কাজ সম্পন্ন করে দেন।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল বলেন,আজ একটু দেরি হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কাজ আমি করিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ‎(কম্পিউটার অপারেটর) বুলবুল বলেন, যেসব কাগজপত্রে ভুলের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ২০১১-১২ সালে হাতে লেখা হয়েছিল। এসব ভুল আবেদনকারীদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে হয়েছে, আমার কোনো ভুল নেই। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি ফোন দিয়ে শুনছি দেখি কেন দেরী হলো ।

‎তিনি আরো বলেন অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন,এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24