
মোঃ আব্দুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার | জন দিগন্ত অনলাইন পত্রিকা
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক রাজনৈতিক পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত গুরুত্ব লাভ করেছে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।
সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে। বেইজিং পৌঁছানোর দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়—বরং এটি হতে পারে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিশেষ করে রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশে চীনা শিল্প স্থানান্তর, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু, শিল্প কারখানা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় আসবে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ ও নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমান যোগাযোগ সহজ করতে গুয়াংজু-চট্টগ্রাম এবং সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টিও আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বিনিয়োগ প্রবাহ আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর সফল হলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও আরও শক্তিশালী হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।
সরকারি মহল বলছে, পারস্পরিক সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই সফরের প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য চীন সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।