1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু

জনগণের অধিকার, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাস্তবতার নির্মম চিত্র

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৫২ বার পঠিত

বুড়িচং কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

আজ আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ভোট দেয়, চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচন করে, কিন্তু নিজের অধিকার সম্পর্কেই পুরোপুরি জানে না।
অনেকেই মনে করেন চেয়ারম্যান মানেই শুধু জন্ম নিবন্ধন বা সনদ দেওয়া। অথচ বাস্তবতা হলো—একটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারের অসংখ্য ভাতা, উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ, অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এই কারণেই অনেকেই বারবার চেয়ারম্যান হতে চান।
কারণ ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি পদ নয়, এটি সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত হয় “স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯” অনুযায়ী।এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—
আজ পর্যন্ত কয়টি ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে লিখে দিয়েছে তাদের হাতে বছরে কত বরাদ্দ আসে?কোথায় কোন প্রকল্প হয়?কারা ভাতা পায়?
কোন রাস্তার জন্য কত টাকা আসে?কারা প্রকৃত উপকারভোগী?বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এসব তথ্য জানতেই পারেন না।ফলে অনেক অসহায় মানুষ বছরের পর বছর সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়েও বঞ্চিত থাকেন।
📌 অথচ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত সেবাগুলো জনগণের মৌলিক অধিকারস্বরূপ। যেমনঃ

🔹 বয়স্ক ভাতা
🔹 বিধবা ও স্বামী নিঃস্ব মহিলা ভাতা
🔹 প্রতিবন্ধী ভাতা
🔹 মাতৃত্বকালীন ভাতা
🔹 দুস্থ মহিলা সহায়তা
🔹 মুক্তিযোদ্ধা ভাতা
🔹 শিশু সহায়তা কর্মসূচি
🔹 খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি
🔹 ভিজিডি (VGD)
🔹 ভিজিএফ (VGF)
🔹 কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য)
🔹 কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা)
🔹 টিআর প্রকল্প
🔹 ১০০ দিনের কর্মসূচি
🔹 দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প
🔹 মৌসুমি কর্মসংস্থান
🔹 যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা

এছাড়াও রয়েছে—

🛣️ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার
🌉 ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ
💧 ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা
🚰 টিউবওয়েল ও নিরাপদ পানি প্রকল্প
🚻 স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
🏫 স্কুল মেরামত ও শিক্ষা সহায়তা
👩 নারী ক্ষমতায়ন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ
🌱 কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সহায়তা
🌳 বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
🌪️ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ সহায়তা
🏠 পুনর্বাসন ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা
💻 ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার সেবা
📄 জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদান

অর্থাৎ, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি অফিস নয়—
এটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো—
অনেক জায়গায় এই সেবাগুলো জনগণের অধিকার হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত অনুগ্রহ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।যেন চেয়ারম্যান নিজের পকেটের টাকা দিচ্ছেন!

কেউ ভাতা পেলে বলা হয় “চেয়ারম্যান দিয়েছে”
ত্রাণ পেলে বলা হয় “অমুকের দয়া”
কাজ পেলে বলা হয় “নেতার অনুগ্রহ”

কিন্তু সত্যটা হলো—
❌ এগুলো কারো ব্যক্তিগত দান নয়
✅ এগুলো রাষ্ট্রের সম্পদ
✅ জনগণের ট্যাক্সের টাকা
✅ সংবিধান ও সরকারি নীতিমালার আওতাধীন নাগরিক অধিকার।
একজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হলো—
✔️ প্রকৃত অসহায় মানুষের তালিকা করা
✔️ দুর্নীতিমুক্তভাবে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া
✔️ স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা
✔️ প্রকল্পের হিসাব প্রকাশ করা
✔️ জনগণের কাছে জবাবদিহি করা
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে “উন্মুক্ত বাজেট সভা” ও “ওয়ার্ড সভা” করার কথা, যেখানে জনগণ জানতে পারবে—
📌 কত টাকা এসেছে
📌 কোথায় খরচ হয়েছে
📌 কারা সুবিধা পেয়েছে
📌 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী
কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই সভাগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।
মনে রাখতে হবে—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
একদিন চেয়ার থাকবে, কিন্তু মানুষের দোয়া বা অভিশাপ থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না।
একজন প্রকৃত চেয়ারম্যান সেই ব্যক্তি—
যিনি মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেন,
অসহায়ের কান্না বোঝেন,নিজেকে জনগণের মালিক নয়, সেবক মনে করেন।
🇧🇩 এই দেশ জনগণের।সরকারি বরাদ্দ জনগণের।
ভাতা জনগণের অধিকার।উন্নয়ন জনগণের প্রাপ্য।
তাই এখন সময়—নীরব থাকার নয়,নিজের অধিকার জানার।স্বচ্ছতা দাবি করার।এবং সৎ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার।
✍️ মোঃ আবদুল্লাহ দৈনিক খোলা কাগজ, দৈনিক জবাবদিহি, বুড়িচং উপজেলা প্রতিনিধি
তথ্য প্রযুক্তি ও প বিষয়ক সম্পাদক প্রেসক্লাব বুড়িচং।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24