
মোঃ আব্দুর রহিম দুলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ০১ নং দুরমুঠ ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য এবং বিচারের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছেন একাধিক নেতা-কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, সালিশ-বিচারের নামে অর্থ আদায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কিছু নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোসরের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকাংশে কমে গেছে। যারা একসময় জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, তাদের বিরুদ্ধেই এখন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এতে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মীও হতাশ হয়ে পড়েছেন।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, “জনগণের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কিছু নেতা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এমনকি নিজ দলের সাধারণ কর্মীরাও নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।”
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
দুরমুঠ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, ঘুষ এবং রাজনৈতিক চরিত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনগণ গণআন্দোলনসহ কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও অনেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।