
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধ মাছুম মিয়া
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহর ও জলসিঁড়ি ১০০ ফিট সড়কসংলগ্ন বাগবের মৌজায় জমি ক্রয় করে আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে ফর্টিস গ্রুপ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে জিএম পদে কর্মরত ছিলেন মো. হেদায়েতুল্লাহ।
জানা যায়, ২০২৩ সালে হেদায়েতুল্লাহ ফর্টিস গ্রুপের চাকরি ছেড়ে চলে যান। চাকরিতে থাকা অবস্থায় রুবেল মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ফর্টিস গ্রুপ। তবে জমিটির নামজারি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৫ লাখ টাকা বকেয়া রেখে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে ফর্টিস গ্রুপের পক্ষে হেদায়েতুল্লাহর মাধ্যমে রুবেল মিয়ার সঙ্গে একটি স্ট্যাম্প চুক্তিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নামজারির জটিলতা নিরসনের পর গত তিন বছর ধরে রুবেল মিয়া বকেয়া ৫ লাখ টাকা পাওয়ার জন্য ফর্টিস গ্রুপের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে গত ৮ মে ২০২৬, শুক্রবার রুবেল মিয়া সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফর্টিস গ্রুপ চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনের পর শাহাদাত হোসেন রুবেল মিয়াকে তার অফিসে ডেকে নেন এবং বকেয়া টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সাবেক জিএম হেদায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন।
এ ঘটনায় টাকার বিনিময়ে সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ ওঠে। তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে রুবেল মিয়া সাংবাদিকদের সামনে হেদায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। এ কারণে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেই বিষয়টিকে অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। পরবর্তীতে ওই সংবাদ সম্মেলনের কোনো সংবাদও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ফর্টিস গ্রুপ চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।