
আবু মুসা, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল পিঠা উৎসব ও ক্রস-কালচারাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়াস্থ হ্নীলা বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা SHED (সেড)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যৌথভাবে অংশ নেন রোহিঙ্গা ইয়ুথ পিসবিল্ডার ও হোস্ট কমিউনিটি ইয়ুথ পিসবিল্ডার দলের সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেডের প্রতিনিধি আসিফ মাহামুদ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিভিন্ন ধরনের পিঠা নিজ হাতে তৈরি করে প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, চিতলসহ নানা ধরনের পিঠা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পরে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার সদস্যের মাঝে এসব খাবার পরিবেশন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সংস্কৃতির সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গান, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আলোচকরা বলেন, ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বসবাস করলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার, হ্নীলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন, হ্নীলা মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা শামসুল হক, মং টিং অং রাখাইনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস এবং একে অপরের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে অংশগ্রহণের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিবি জান, কাঁকন দাস, সোহেল রানা, জয়া, হালিমা, আসমত উল্লাহ, ইয়াছিন আরাফাত, মাঈন উদ্দিন রায়হান, প্যানো রাখাইনসহ রোহিঙ্গা ও হোস্ট কমিউনিটি ইয়ুথ পিসবিল্ডার দলের সদস্যরা।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ পিসবিল্ডার দলের সদস্যরা বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা, মানবিক সহযোগিতা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের সম্প্রীতিমূলক আয়োজন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।
আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মানবোধ এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়।