1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু মদন পৌর সদরে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করলেন মেয়র পদপ্রার্থী এনামুল হক কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দলিলকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ঘর বাড়ি ভাংচুর আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার (এম.এ) জনপ্রিয়তার শীর্ষে গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

তাহিরপুরের চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় শুভঙ্করের ফাঁকি

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

‎ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু ক্রয়বিক্রয়ের সুবিধার্থে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে শুভঙ্করের ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সরকার কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়ে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ।

‎সরকারি হিসাব ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে উপজেলার সবচেয়ে বড় বাদাঘাট গরুর হাট ছাড়াও ক্রেতাদের সুবিধার্থে উপজেলার শান্তিপুর, বড়ছড়া, লাউড়েরগড় ও কলাগাঁও বাজারে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোর জন্য ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কলাগাঁও বাজার পশুর হাট ২৮ হাজার , লাউড়েরগড় বাজার পশুর হাট ১৮ হাজার, একতা বাজার পশুর হাট মাত্র ২০ হাজার টাকা এবং  উপজেলার আলোচিত শান্তিপুর পশুর হাট ৪৮ হাজার ১০০টাকায় ইজারা দেয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক । অভিযোগ উঠেছে, ওই চারটি হাটে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মূল্যের চারটি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয় নামমাত্র ১ লাখ ১৪ হাজার ১০০ টাকায় । ওই অস্থায়ী চারটি পশুর হাট ইজারা মূল্যের চেয়ে কম টাকায় ইজারা দেয়া উপজেলার সচেতন মহলসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিতে আগ্রহী অনেকেই জানান, উপজেলা প্রশাসন কোনোধরনের বিজ্ঞপ্তি বা প্রচার চাড়াই এইসব অস্থায়ী পশুর হাট গুলো ইজারা দেয়। আর এই চারটি হাটেই নামমাত্র ইজারা মূল্য দিয়ে বর্তমান সরকার দলীয় বিএনপি নেতাদের ইজারা দেয়া হয়েছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাটে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, খাস কালেকশনের হিসাব অডিট এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাট-বাজার কেন্দ্র করে রাজস্ব ফাঁকি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের সমস্যা।


‎এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ পশুর হাট বাদাঘাট বাজারে গত দুই বছর ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশনে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে বর্তমান রাজনৈতিক দলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করছে। এই হাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদার নামমাত্র উপস্থিত দেখিয়ে ওই সিন্ডিকেটটি কালেকশনের মাধ্যমে সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অথচ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে নামমাত্র অংশ। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। এই হাটটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্ধ কোটি টাকায় ইজারা হলেও অথচ গত দুই বছর ধরেই বাদাঘাট হাটটির ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশনের নামের চলছে সরকারি অর্থ লুটপাটের নিরব মচ্ছধ। বাস্তবে এই হাটে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা থাকলেও বাস্তবে আদায় হচ্ছে তার কয়েকগুণ কম।

‎স্থানীয়দের ভাষায়, ‘এটা হাট না, যেন রাজস্ব লুটের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।’ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ রয়েছে, বাদাঘাট বাজার গরুর হাটসহ উপজেলার সবকয়টি গরুর হাটকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র গড়ে উঠেছে, যারা সম্প্রতি সময়ে ওই হাটের রাজস্ব আদায়কে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

‎এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,  ‘হাটে গরু ওঠানামা, বেচাকেনা, ইজারা আদায় সবকিছুই একটা রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক বড় অঙ্কের টাকা হাতবদল হচ্ছে, কিন্তু সরকারি রসিদে দেখা যায় নামে মাত্র। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

‎এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির নেতা আজিজুর রহমান বলেন, ‘গত বছরে আমি ইজারা নিয়েছিলাম, তবে এ বছর নয়। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমার কিছু জনবলের সহযোগিতায় খাস কালেকশন করা হচ্ছে। কত টাকা কালেকশন হচ্ছে তা আমি বলতে পারব না।’


‎এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নবাগত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, বাদাঘাট বাজার পশুর হাট গত পহেলা বৈশাখ থেকেই খাস কালেকশন চলছে। একজন তহশিলদার থেকে ইজারা আদায় করছেন। এখানে কোন অনিয়ম বা অর্থ লুটপাটে প্রশ্নই উঠেনা। যা তোলা হচ্ছে তাই সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে। তহশিলদার একা কালেকশন করতে পারবেনা বিদায় স্থানীয় কিছু লোক রেখে ইজারা আদায় করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে জনসাধারণের পশু ক্রয়বিক্রয়ের সুবিধার্থে উপজেলায় চারটি অস্থায়ী পশুর ইজারা দেয়া হয়েছে। চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে তা ইজারা মূল্যের চেয়ে অতি কম মূল্যে ইজারা দেয়া হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ওপেন ডাকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেয়া হয়ে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24