
প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আকতার
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জৈষ্ঠ্যমাস এলেই বাজারে দেখা মেলে সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল তাল। ২০২৬ সালের জৈষ্ঠ্য মাসে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও কেরানি হাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাল সংগ্রহ করতে পটিয়ার ভাইয়ের দীঘির পাড়ে আসছেন। এতে করে এলাকায় জমে উঠেছে প্রাণবন্ত তালের পাইকারি বাজার।
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো ভাইয়ের দীঘির পাড় এলাকা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ তালের পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে এই বাজারটি পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, কচুয়াই, চনরা, বোয়ালখালী, টাসরদীঘি সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে এখানে পাইকারি বিক্রির জন্য আনা হয়। তিনি বলেন, “এ বছর তালের ফলন ভালো হওয়ায় সরবরাহও বেশি। তবে তীব্র গরমের কারণে চাহিদাও বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী জাগীর হোসেন জানান, এক একটি চোরে (ঝুড়ি) প্রায় ৩০ থেকে ৪০ পিস তাল থাকে এবং প্রতি ১,০০০ তাল ১৫,০০০ থেকে ১৬,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য আরও বেড়েছে।
কেরানি হাট থেকে আগত সাইফুলসহ বিভিন্ন ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া দোহাজারীর মুসা, মোরশেদ, মুহাম্মদপুর এলাকার ক্রেতারা এবং চন্দনাইশের করিমসহ আরও অনেকে নিয়মিত এই বাজারে তাল কিনতে আসেন। তারা জানান, তালের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে পরিবারের চাহিদা পূরণে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসতে হয়।
ক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “তাল এখন গরমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এর শাঁস ও রস খুবই সুস্বাদু এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত কিনতে আসি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও তাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য মাস এলেই তালকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের বাজারগুলোতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অনেকের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে তাল ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।