
মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ১২ আউলিয়া মাজার। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এখানে বার্ষিক ওরস ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ ই মে ২০২৬ ইং তথ্য অনুযায়ী ওরস উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।
আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় বারোজন অলি আউলিয়ার কবর বা মাজার নিয়ে গঠিত বারো আউলিয়ার মাজার শরীফ। মাজার শরীফের পাশ্ববর্তী এলাকাটি বারো আউলিয়া গ্রাম নামেও পরিচিত। ‘অলি’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ বন্ধু বা আল্লাহর বন্ধু, অলি শব্দ থেকেই আউলিয়া শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ অভিভাবক।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, অনেক যুগ পূর্বে ১২ জন অলি বা সুফি সাধক চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে আসেন এবং এখানে আস্তানা গড়ে ইসলাম প্রচার করেন। এই সুফি সাধকদের ওফাত বা মৃত্যুর পরে ওই স্থানেই তাদের সমাহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে এখানে গড়ে ওঠে বারো আউলিয়ার মাজার।
বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে যততটুকু জানা যায়, ওই এলাকায় ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব বা প্রচার এই ১২ জন অলি আউলিয়ার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। বারো আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের জনশ্রুতিও স্থানীয়দের কাছে প্রচলিত আছে। প্রায় ৪৭ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মাজার শরীফ এলাকায় পুকুর ১২ জন আউলিয়াকে এই বিস্তীর্ণ ৪৭ একর জমির ১১ টি স্থানে তাদের সমাহিত করা হয়েছে।
মাজার শরীফে কবরে কোন প্রকার নামফলক না থাকার কারনে নিশ্চিত ভাবে কোনটা কার কবর তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে মাজার শরীফ এলাকার কেন্দ্রে হেমায়েত আলী শাহ (রঃ) ও নিয়ামত উল্লাহ শাহ (রঃ) কবর দুটি পাশাপাশি একসাথে অবস্থিত, যা জোড়া কবর নামে পরিচিত। বার আউলিয়া ওলীদের আগমনের ইতিহাস বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেলেও ওলীদের ইতিহাস রহস্যাবৃত। এঁদের লিখিত কোন ইতিহাস আজও পাওয়া যায়নি।
বারো জন আউলিয়ার নামঃ যে ১২ জন আউলিয়া এই পবিত্র ভূমিতে শান্তিতে শায়িত আছেন তাঁরা হলেনঃ
(১) হেমায়েত আলী শাহ (রঃ)
(২) নিয়ামত উল্লাহ শাহ (রঃ)
(৩) কেরামত আলী শাহ (রঃ)
(৪) আজহার আলী শাহ (রঃ)
(৫) হাকিম আলী শাহ (রঃ)
(৬) মনছুর আলী শাহ (রঃ)
(৭) মমিনুল শাহ (রঃ)
(৮) শেখ গরীবুল্লাহ (রঃ)
(৯) আমজাদ আলী মোল্লা (রঃ)
(১০) ফরিজ উদ্দিন আখতার (রঃ)
(১১) শাহ মোক্তার আলী (রঃ)
(১২) শাহ অলিউল্লাহ (রঃ)
এলাকাবাসীর দাবি কিছু ভক্ত মাজার শরীফে বেদাত কাজে লিপ্ত থাকে কিছু মানুষ মাজারে সেজদা করে এটা পুরোপুরি ইসলাম পরিপন্থী বলে দাবি করেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। মাজার হচ্ছে পবিত্র জায়গা তাই মাজারের পবিত্রতা রক্ষার্থে প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।