
মোঃ আঃ কুদ্দুস,মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মনতলা গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় একের পর এক ভেঙে পড়ছে পানের বরজ, আর হুমকির মুখে পড়েছে বহু মানুষের বসতভিটা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমে থাকা পানির তীব্র চাপ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনের কারণে প্রায় তিন একর পানের বরজ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ফাটল। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পানি নিষ্কাশনের অভাবে দুর্ভোগ বাড়ে। তবে এবারের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পানের বরজ, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন পানের বরজের চাষিরা। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা তাদের স্বপ্নের বরজ চোখের সামনে নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে দেখে অনেকেই বাকরুদ্ধ। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বহু পরিবার। কারও চোখে পানি, কারও কণ্ঠে হতাশা—কিন্তু সবার দাবিই এক, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লিয়াকত আলী বলেন,
“পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই গ্রামের মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পানের বরজ, কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে। তখন বহু পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন আকন্দ, মো. নুরুল ইসলাম বেপারী, আতাহার আলী, নয়ন মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী মনোহরদী উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে পশ্চিম মনতলা গ্রামের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
ভুক্তভোগী বরজ চাষিদের একটাই আকুতি—“আমাদের বাঁচাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন, নয়তো সবকিছু হারিয়ে পথে বসতে হবে।”