
মোঃ আইনুল ইসলাম
বিভাগীয় সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী কামারপাড়া এলাকায় পিতার মৃত্যুর পর এক শিক্ষিত তরুণী ও তার বৃদ্ধা মাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করা এবং বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানাসহ মানবাধিকার সংস্থায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ভারতী রায়, যিনি শিক্ষাগতভাবে মাষ্টার্স ডিগ্রিধারী, তিনি দাবি করেন— তার পিতা মৃত বুধা বর্মনের মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র ভাই রণজিৎ চন্দ্র রায় ও ভাবি গীতা রানী রায় তাকে ও তার বৃদ্ধা মা অন্তী রানী রায়কে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেওয়া, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি এবং জোরপূর্বক এক বেকার যুবকের সঙ্গে বিয়ের চেষ্টা চালানো হয়।ভারতী রায়ের ভাষ্যমতে, এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তার মা’কেও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মহৎ প্রধানদের মাধ্যমে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা হলেও অভিযুক্তরা তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগীর মা অন্তী রানী রায়ও খানসামা থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী প্রায় ১০ বিঘা আবাদি জমি রেখে মারা গেলেও বর্তমানে ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে এবং অবিবাহিত কন্যাকে সঠিকভাবে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করছেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা-এও আবেদন করা হয়। অভিযোগের আবেদন পাওয়ার পর সংস্থাটির দিনাজপুর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান শাহ্ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ মারুফ হুসাইন ইমন চৌধুরী গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত রণজিৎ কুমারকে নোটিশ পাঠিয়ে আগামী ১৮ মে ২০২৬ তারিখে দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির পুরাতন ভবনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের বিষয়ে শুনানি ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের একাংশ দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধ দ্রুত ন্যায়সংগত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, পারিবারিক সহিংসতা, নারীর ভরণপোষণ অধিকার ও পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চনার মতো অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।