
নিজস্ব সংবাদদাতা: মাওলানা জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি কথিত অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই অডিওতে পুলিশের চাকরিকে ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ হিসেবে উল্লেখসহ বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে কথিতভাবে ওসি আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। তবে সবাই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। যারা করবে, তাদের করার মতো করতেই হবে।”
এছাড়াও তিনি থানার সদস্যদের উদ্দেশে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাইরের লোকজন তো আর টাকা দেবে না। আমি আপনাদের টাকা দেব, আপনাদের ঠকাব না। আমরা যেন সবাই ভালো থাকতে পারি।”
অডিওতে আরও শোনা যায়, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, অভিযোগ ও মামলা পরিচালনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে বলা হয়, “মামলা হয়েছে, এখন টাকা নিয়েছে—এমন খবরও এসেছে। আপনারা যা করবেন, আমার মাধ্যমেই করবেন।”
এছাড়া কনস্টেবলদের বঞ্চিত না করার বিষয়, গণমাধ্যম এড়িয়ে চলার পরামর্শ এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে অডিওতে ওসির সঙ্গে কথা বলা অপর ব্যক্তির বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এমন কোনো কথা বলিনি। ভাইরাল হওয়া অডিওটি আমার নয়। আমি এ ধরনের বক্তব্য দিতেই পারি না।”
অডিওটি ওসির কণ্ঠস্বর কি না এবং এ বিষয়ে তদন্ত হবে কি না—জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, অডিও ক্লিপটি প্রকাশ্যে আসার পর কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”