
মোঃ আব্দুর রহিম দুলু, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের কুলিয়া এলাকার বহুল আলোচিত ও ‘সয়াবিন তেল আলম’ নামে পরিচিত শফিকুল ইসলাম আলমের বিরুদ্ধে এবার একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক, বিয়ে ও তালাক, দেনমোহর না দেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি এবং বিকাশ প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে জামালপুরের ইসলামপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি-বেসরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়ে বেকার যুবক ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করার পর কিছুদিন সংসার করে হঠাৎ তাকে তালাক দেন শফিকুল ইসলাম আলম। এরপর ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। নিরুপায় হয়ে ওই নারী ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য ঢাকা জজ কোর্টে শফিকুল ইসলাম আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও কুমিল্লার বাসিন্দা ইভা নামে আরেক তরুণীকেও বিয়ে করে কিছুদিন পর তালাক দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে ও পরে তালাক দেওয়ার ঘটনা তার বিরুদ্ধে বহুদিনের পুরোনো অভিযোগ। এ কারণে এলাকায় তিনি “নারীকেলেংকারির নায়ক” হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
শুধু তাই নয়, হাতিজা গ্রামের হেলাল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও তার ছেলেকে এয়ারপোর্টে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও চাকরি তো দূরের কথা, হেলালের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগও রাখেননি আলম। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম আলম নিজেকে কখনো শরীরচর্চা শিক্ষক, কখনো ক্রীড়া সংগঠক, কখনো ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, আবার কখনো জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি পরিচয়ে উপস্থাপন করতেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল তার প্রধান কৌশল।
বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমেও বহু মানুষ তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য পরিবার তার মিথ্যা আশ্বাসে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একজন সাবেক চেয়ারম্যানপুত্র হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে অবশেষে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষের ভাষায়, “দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের অবসান ঘটেছে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—এই বহুল আলোচিত প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ চাকরির প্রলোভন, বিয়ের প্রতারণা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর সাহস না পায়।
এলাকাবাসীর ভাষায়,
“শত শত পরিবারকে পথে বসানো, অসংখ্য নারীর জীবন নিয়ে খেলা করা এবং মানুষের স্বপ্ন ধ্বংস করা এই প্রতারকের কঠোর শাস্তিই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।”
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনমনে এখন একটাই প্রত্যাশা—আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতারক শফিকুল ইসলাম আলম ওরফে ‘সয়াবিন তেল আলম’-এর উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত হোক।