
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২১ জুলাই ২০২৬
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে আরও মজবুত এবং যুগোপযোগী করে তুলতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার মিরপুরস্থ পিটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
‘অধিকতর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মহোদয় শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষক সমাজের নৈতিক দায়িত্ববোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব শাহীনা ফেরদৌসী।
অনুষ্ঠানের মূল সুর ও কর্মপরিকল্পনা
সভার শুরুতে বক্তারা দেশের প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ ও তার নিখুঁত সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি জাতির বিনির্মাণের প্রথম ইটের মতো। এই ভিত যদি দুর্বল থাকে, তবে উচ্চশিক্ষার সুউচ্চ সৌধ গড়ে তোলা অসম্ভব। তাই প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর পঠন-পাঠন আনন্দময় ও জীবনমুখী করে তুলতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সচিব জনাব মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন প্রশাসনিক সমন্বয় এবং শিক্ষা উপকরণের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকারের নীতিমালার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের মনিটরিং আরও কঠোর করা হবে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেপথ্য চালিকাশক্তি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এক গভীর মানবিক চিত্র ফুটে ওঠে। অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদের অবহেলিত শিশুরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পা রাখে, তখন তাদের সেই সরল চোখে থাকে একটি আলোকিত আগামীর স্বপ্ন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তদারকির অভাব এবং প্রান্তিক অঞ্চলের কিছু দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় সেই কোকিলকণ্ঠী স্বপ্নগুলো অঙ্কুরেই হোঁচট খায়।
একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করলেই শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন নীতি-নির্ধারক থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে এক আত্মিক সেতুবন্ধন। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সভা সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সুশাসনের আলো জ্বালানোর এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানী পর্যালোচনায় ভবিষ্যৎ রূপরেখা
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কেবল বাজেট বরাদ্দই শেষ কথা নয়; বরং বরাদ্দকৃত অর্থের সৎ ব্যবহার, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ঝরে পড়ার হার (Dropout rate) শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রণালয়ের চলমান এই পদক্ষেপগুলো যদি যথাযথভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের আগামী প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযুক্ত করে গড়ে তুলবে।
সভা শেষে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।