
নিজস্ব প্রতিবেদক:আশিকুর রহমান
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে নতুন নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে আবারও অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীতের বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করেই নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মহাপরিচালক (ডিজি) জায়েদ কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়োগ কার্যক্রমই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময় চাকরিপ্রার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সেই সময় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা ফলাফল এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক নাফিস নামের এক ব্যক্তি নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের তীর উঠেছে ডিজির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দিকেও। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনের অভ্যন্তরে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
ই-ফায়ার লাইসেন্স ও সফটওয়্যার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্স আবেদন ফি আদায় ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি আবেদন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ
ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিধিমালা ও নতুন পরিপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
প্রযুক্তি প্রকল্প ও জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ড্রোন ক্রয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া পূর্বাচলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রকল্প অনুমোদন ও বিল নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, নিয়োগ, বদলি, সফটওয়্যার ক্রয়, লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্তই জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক জায়েদ কামালের বক্তব্য জানতে সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।