
মোহাম্মদ সবুর শেখ
ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি।
খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পাশেই অবস্থিত একটি ছাতা-আকৃতির দৃষ্টিনন্দন বসার স্থান, যা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একমাত্র বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমানে স্থাপনাটি চরম অবহেলা ও অযত্নের কারণে ধীরে ধীরে তার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় নান্দনিক পরিবেশে নির্মিত এই বিশ্রামাগারটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে, টাইলস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারপাশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এটি এখন দর্শনার্থীদের কাছে একটি জরাজীর্ণ স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্রামাগারের সামনে পূর্বে দুটি দৃষ্টিনন্দন হরিণের ভাস্কর্য স্থাপন করা ছিল, যা এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে একটি ভাস্কর্য সম্পূর্ণ অনুপস্থিত এবং অবশিষ্ট হরিণটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক ও জরাজীর্ণ। ফলে স্থাপনাটির নান্দনিকতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
উপজেলা পরিষদে প্রতিদিন বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য শত শত মানুষ আসেন। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অথচ তাদের বসে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কার্যকর ও উপযুক্ত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। সেই বিবেচনায় এই বিশ্রামাগারটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এটি আজ অবহেলার শিকার।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। অবহেলার কারণে এমন স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় হয়, অন্যদিকে সাধারণ জনগণও বঞ্চিত হয় প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে।
স্থানীয় জনগণের দাবি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
ফুলতলা উপজেলা পরিষদ প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে, জনস্বার্থে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামাগারটি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় অব্যাহত অবহেলায় স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জনগণের করের টাকায় নির্মিত জনসম্পদ রক্ষা করা শুধু কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, এটি সুশাসন ও জবাবদিহিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।