
স্টাফ রিপোর্টার |
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে ঘিরে দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় বিভিন্ন সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেল ৫০০-রও বেশি মামলা, হামলা, গ্রেফতারি ঝুঁকি ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজপথে আন্দোলন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সরকারের বিরোধী কঠোর অবস্থানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকেছেন।
তাদের দাবি, এমন একজন পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতার যথাযথ মূল্যায়ন আজও দৃশ্যমান নয়। বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে “৫ তারিখের পর” হঠাৎ করে সুবিধাভোগী ও সুযোগসন্ধানী কিছু ব্যক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে না থাকলেও বর্তমানে নানা সুবিধা ও পদ-পদবিতে মূল্যায়িত হচ্ছেন।
এ নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যারা বছরের পর বছর মামলা, হামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের অবমূল্যায়ন হলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে। ত্যাগের রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে দলের আদর্শিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং সুবিধাবাদী রাজনীতিকে নিরুৎসাহিত করা দলীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দলের দুঃসময়ের সৈনিকদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন কি নিশ্চিত করা হবে, নাকি সুবিধাবাদীদের দখলেই থাকবে সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু?
এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা আশা করছেন, ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শের ভিত্তিতেই প্রকৃত নেতৃত্বের মূল্যায়ন হবে।