1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ:আলো ছড়ানো এক জীবনের গল্প

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ৭৭ বার পঠিত

কলকাতার জোড়াসাঁকোর সেই বিশাল ঠাকুরবাড়িতে ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্ম নিয়েছিলেন এক শান্ত, গভীর চোখের শিশু। নাম রাখা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরিবার ছিল শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা ও শিল্পপ্রেমী। কিন্তু ছোট্ট রবির মন ছিল অন্যরকম—তিনি বইয়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন প্রকৃতি, আকাশ, নদী আর মানুষের জীবন দেখতে।
শৈশবে তিনি বিদ্যালয়ের চার দেয়ালে নিজেকে বন্দি মনে করতেন। তাই জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখতেন, গাছের পাতায় বাতাসের নাচ দেখতেন। একদিন ছোট্ট রবি বাবাকে বলেছিলেন—
“মানুষ কি শুধু বই পড়েই বড় হয়? প্রকৃতি থেকেও কি শেখা যায় না?”
এই প্রশ্নই যেন তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
কৈশোরে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। অল্প বয়সেই তাঁর শব্দের জাদু সবাইকে মুগ্ধ করে। কিন্তু জীবনের পথ তাঁর জন্য শুধু প্রশংসায় ভরা ছিল না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হারান মা, পরে স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, সন্তান এবং প্রিয়জনদের। একের পর এক শোক তাঁর জীবনকে আঘাত করে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি।
শিলাইদহের পদ্মার তীরে নৌকায় বসে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ দেখতেন। কৃষকের কষ্ট, গ্রামের মানুষের হাসি, বাংলার প্রকৃতি—সবকিছু তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে যেত। সেই অনুভব থেকেই জন্ম নেয় অসংখ্য গান, কবিতা ও গল্প।
একবার এক দরিদ্র কৃষক তাঁর কাছে এসে বলেছিল—
“বাবু, আমাদের কথা কেউ লেখে না।”
রবীন্দ্রনাথ শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন—
“আমি লিখবো তোমাদের কথা, বাংলার মাটির কথা।”
তারপর থেকেই তাঁর লেখায় উঠে আসে বাংলার গ্রাম, মানুষের ভালোবাসা, বেদনা ও স্বপ্ন।
১৯১৩ সালে তাঁর “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থ তাঁকে এনে দেয় বিশ্বের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান—নোবেল পুরস্কার। পুরো পৃথিবী তখন বাংলার এক কবিকে চিনে নেয়। কিন্তু এত বড় সম্মান পাওয়ার পরও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ।
১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া “নাইট” উপাধি তিনি ফিরিয়ে দেন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। তিনি লিখেছিলেন—
“মানুষের রক্তের ওপর কোনো সম্মান টিকে থাকতে পারে না।”
এই সাহসী প্রতিবাদ তাঁকে শুধু কবি নয়, মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে।
তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষা হবে মুক্ত, আনন্দময় ও প্রকৃতিনির্ভর। তাই শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে গাছের নিচে বসে পাঠদান হতো। তাঁর স্বপ্ন ছিল—একদিন মানুষ ধর্ম, জাতি ও ভেদাভেদ ভুলে একসাথে মানবতার পথে চলবে।
জীবনের শেষ সময়েও তিনি লিখে গেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও কলম থামাননি। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর গান, কবিতা ও দর্শন আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
আজ দক্ষিণডিহির রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে যখন রবীন্দ্রজয়ন্তী ও লোকমেলার আয়োজন হবে, তখন যেন মনে হয়—বাংলার মাটি, নদী, গ্রাম আর মানুষের মাঝে রবীন্দ্রনাথ এখনও আছেন। বাতাসে ভেসে আসে তাঁর সেই অমর বাণী—
“মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।”
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাঙালির আত্মা, বাংলার আকাশে জ্বলজ্বলে এক চিরন্তন নক্ষত্র।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24