
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া বলেছেন, গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার সারদাগঞ্জ কাজী মার্কেটে অবস্থিত মতিন স্পিনিং মিলস্ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে সততা, সুনাম, শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ ও উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে দেশের শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের যথাযথভাবে ছুটি প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন। তবে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি মেশিনারি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কোম্পানির জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক কিছু কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, “শিল্প প্রতিষ্ঠান বাঁচলে দেশ বাঁচবে, শ্রমিক বাঁচবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই জাতীয় স্বার্থে ও শিল্প রক্ষার প্রয়োজনে আইনসম্মত উপায়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা কোনোভাবেই শ্রম আইন লঙ্ঘন নয়।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা কার্যক্রম অথবা শিল্পের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সীমিত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তবে তা অবশ্যই শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা, সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার শর্তে হতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন—
– শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা যাবে না,
– অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে,
– নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে হবে,
– এবং শ্রমিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১০০, ১০২ ও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজ, ছুটি, মজুরি ও কল্যাণ সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা, আলোচনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমেই দেশের শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
পরিশেষে তিনি দেশবাসী, শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “শ্রমিক-মালিক ঐক্য, পারস্পরিক সম্মান এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই দেশের শিল্পখাত এগিয়ে যাবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”