
এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্তরে কৃষি শিক্ষা পুনরায় বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর দেশে কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাওয়া উদ্বেগজনক এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কৃষি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শিক্ষা প্রদান করা। কিন্তু পরবর্তীতে কৃষি শিক্ষাকে ঐচ্ছিক বিষয় করা হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
লায়ন গনি মিয়া বাবুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থার সঙ্গে কৃষি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, সবজি, মাছ, দুধ ও মাংস উৎপাদনে দেশের অগ্রগতির পেছনে কৃষক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে দক্ষ কৃষিজনশক্তির সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একসময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে গাছ লাগানো, বীজ সংরক্ষণ, সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও মাছ চাষ সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করত। এতে আত্মনির্ভরশীলতা ও শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হতো। বর্তমানে পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার কারণে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি মনে করেন, মাধ্যমিক স্তরে কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই কৃষির গুরুত্ব বুঝতে শিখবে এবং খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য সংকট ও পরিবেশ দূষণের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক কৃষি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লায়ন গনি মিয়া বাবুল বলেন, কৃষি শিক্ষা শুধু কৃষক তৈরির জন্য নয়, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের জন্যও প্রয়োজন। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে কৃষি শিক্ষা পুনরায় বাধ্যতামূলক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।