
টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কোরবানির পশু ক্রয় ও কোরবানি কার্যক্রমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় কোরবানির পশু কেনার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা, চোরাচালান ও অপহরণের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে বিপুল সংখ্যক গরু কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। এ বিপুল ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং এর উৎস কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে চলতি বছর কোরবানির মৌসুমকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অপহরণ চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ যদি সামাজিক বা ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে তা আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
তাদের মতে, কোরবানির পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস যাচাই এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনারও দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অপহরণবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও অবৈধ অর্থের প্রবাহ সম্পর্কেও নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত ও প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, তথ্যভিত্তিক তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, অন্যদিকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।