
বিশেষ প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস
শিরোনাম :
বগুড়া পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আরিফুল ইসলাম জেলা পুলিশের বেতার শাখায় সহকারী উপপরিদর্শক বা এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ লাইন্সের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদিকে নিহতের স্ত্রী বলছেন শ্বশুর বাড়ির পারিবারিক কলহের জেরেই এই আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে বিস্তারিত,,,, পাঠানো তথ্য ও চিত্রে।
ভয়েস ওভার
বগুড়া পুলিশ লাইন্সের দোতলার একটি কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গেই থাকতেন এএসআই আরিফুল ইসলাম। প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে স্বাভাবিক দেখা গিয়েছিল। তবে আজ শুক্রবার সকালে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে কর্মস্থলে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সহকর্মীরা। একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে বেতার শাখার পাশের একটি ওয়ার্কশপ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় আরিফুলের মরদেহ দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ নিচে নামানো হয়। নিহত আরিফুল ইসলামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘড়িয়া এলাকায়। নিহত এএসআই আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
ভক্স পপ:
এ বিষয়ে আতোয়ার রহমান (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বলেন:
“আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে এএসআই আরিফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা মানসিক কারণ রয়েছে কি না, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।”
ভয়েস ওভার
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত কোনো ঋণের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নিহতের স্ত্রী ও শ্বাশুড়ির দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নিতহ এএসআই আরিফুল ইসলাম তার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। কিছুদিন আগেও তিনি তার শ্বাশুড়িকে মুঠোফোনে এ বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরেই এই আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।
বর্তমানে তার লাশটি ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন পুলিশ।