
নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস প্রিয়া আক্তার
আজ ৩০ জুন, বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-এর জন্মবার্ষিকী। ১৯৪২ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করা এই সংগ্রামী নেত্রী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধের অবদান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের নিরলস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন সাহস, সততা, আদর্শ এবং আপসহীন নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি সংগ্রামে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর দৃঢ় অবস্থান, ত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য তিনি মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘অগ্নিকন্যা’ নামে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন, কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কৃষি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি নৈতিকতা, সততা এবং জনসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা, কর্মমুখী ও জনকল্যাণে নিবেদিত। ক্ষমতায় থাকুক কিংবা বিরোধী দলে—সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের প্রশ্নে তিনি সবসময় ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বরেণ্য নেত্রীকে স্মরণ করছে। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মতিয়া চৌধুরী-এর আদর্শ, দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা সময়ের দাবি। তাঁর কর্মময় জীবন তরুণ সমাজকে দেশপ্রেম, সততা এবং জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগাবে।
জন্মবার্ষিকীর এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে এই মহান নেত্রীকে। দেশবাসী মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং প্রার্থনা করছেন—মহান আল্লাহ যেন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করেন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংগ্রাম, সাহস, সততা এবং জনকল্যাণের প্রতীক হয়ে মতিয়া চৌধুরী চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আদর্শ ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই দেশবাসীর।