
মোঃ রেজাউল করিম, শান্তিগঞ্জ সুনামগঞ্জ,
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে একটি গ্রেফতার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মানহানিকর প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি নিয়মিত অভিযানের সংবাদ প্রকাশের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে এবং সাংবাদিকতা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাকার চকবাজার থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাকারিয়া আহমদ স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদটি প্রকাশ করেন সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম।
তিনি দাবি করেন, সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার সকল নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং একই তথ্য দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এবং প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্যের ঘরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছেন।
মোঃ রেজাউল করিম বলেন, একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো শুধু অনৈতিকই নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদার সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তবে ব্যক্তি আক্রমণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাউকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার, হয়রানি ও সম্মানহানিকর কার্যক্রমও আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন।
সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমি কোনো ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করব না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাব।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব, জেলার গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অপপ্রচার কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। তাই সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে কোনো সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা ও মানহানির ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করছেন।